নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার সাভারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল সয়াবিন তেল এবং নামি ব্র্যান্ডের নকল ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে কারখানাটি সিলগালা করার পাশাপাশি এর ব্যবস্থাপককে এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেওগা মহল্লায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মজিবুর রহমানের বাড়িতে অবস্থিত ‘গ্যালাক্সি এগ্রো লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম অভিযানের নেতৃত্ব দেন। অভিযান চলাকালে কারখানার ব্যবস্থাপক আসমা আক্তারকে আটক করা হয়। বিএসটিআই-এর অনুমোদনহীন ও ভেজাল পণ্য বাজারজাত করার অপরাধে তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। এ সময় কারখানাটি সিলগালা করে জব্দকৃত মালামাল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানাটিতে খোলা সয়াবিন তেল, পাম অয়েল ও ফার্নিস অয়েল এনে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হতো। এরপর সেগুলোকে ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ ‘ফর্টিফাইড সয়াবিন তেল’ হিসেবে এক থেকে পাঁচ লিটারের বোতলে ভরে বাজারজাত করা হতো। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কারখানাটিতে কোনো ল্যাব বা কেমিস্ট না থাকলেও বোতলের গায়ে বিএসটিআই-এর লোগো ব্যবহার করা হতো। এছাড়াও সেখানে ‘সানশাইন’ ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নকল ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, “জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই ভেজাল কারখানার সন্ধান পেয়ে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। মালিক নিজামুদ্দিন পলাতক থাকলেও ব্যবস্থাপককে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। কারখানাটি সিলগালা করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। সাভার সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন জানান, এর আগে ইউপি সদস্য মজিবুর রহমানকে এই কারখানার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্লেখ্য, অভিযান চলাকালে পাশের একটি কসমেটিক কারখানার শ্রমিক ও কর্মকর্তারা তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান। অভিযানে সাভার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।